ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬
আপডেট : ৮ আগস্ট, ২০২০ ০৭:৫৯

মশক নিধনে শনিবার থেকে ডিএনসিসিতে চিরুনি অভিযান

অনলাইন ডেস্ক
মশক নিধনে শনিবার থেকে ডিএনসিসিতে চিরুনি অভিযান

এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে তথা মশক নিধনে আবারও চিরুনি অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। আগামী শনিবার (৮ আগস্ট) শুরু হবে ১০ দিনব্যাপী এ অভিযান।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে ডিএনসিসি। এর মাধ্যমে চলতি মৌসমে মশক নিধনে চতুর্থবারের মতো অভিযানে নামতে যাচ্ছে সংস্থাটি।

৮ আগস্ট শুরু হয়ে ১০ দিনব্যাপী এ অভিযান চলবে ২০ আগস্ট পর্যন্ত। আগামী ১১ আগস্ট জন্মাষ্টমী, ১৪ আগস্ট শুক্রবার ও ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে চিরুনি অভিযান বন্ধ থাকবে। অ‌ভিযানের কার্যক্রম সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলমান থাকবে। তবে অঞ্চল বা ওয়ার্ডভেদে প্রতিদিনের চিরুনি অভিযান শুরু ও শেষ করার সময় পরিবর্তন হ‌তে পা‌রে। ডেঙ্গু সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আগামী শনিবার থেকে অনুষ্ঠেয় চিরুনি অভিযান সম্পর্কে নগরবাসীকে অবহিত করতে ইতোমধ্যে ডিএনসিসির সর্বত্র মাইকিং করা হয়েছে বলে জানানো হয় সংস্থাটির পক্ষ থেকে।  

চিরুনি অভিযান সর্বাত্মকভাবে সফল করতে ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম ওয়ার্ড কাউন্সিলর, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর, গণমাধ্যমকর্মী ও ডিএনসিসির সর্বস্তরের জনগণকে আহ্বান জানান।  

তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের স্থাপনার ভেতরে-বাইরে, আশপাশে তিনদিনের বেশি জমা পানি থাকবে, ততদিন পর্যন্ত আমরা ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষিত নই। নগরবাসীর প্রতি আমার আহ্বান, বাড়ি বা স্থাপনার ভেতরে, বাইরে, আশপাশে কোথাও পানি জমে থাকলে এক্ষুনি ফেলে দিন। তিনদিনে একদিন জমা পানি ফেলে দিন। ডেঙ্গু থেকে আপনি সুরক্ষিত থাকুন, আপনার পরিবার, শহর ও রাষ্ট্রকে সুরক্ষিত রাখুন।

এর আগে পরিচালিত চিরুনি অভিযানের মতো এ চিরুনি অভিযান পরিচালনার উদ্দেশে প্রতিটি ওয়ার্ডকে ১০টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। আবার প্রতিটি সেক্টরকে ১০টি সাবসেক্টরে ভাগ করা হয়। প্রতিদিন প্রতিটি ওয়ার্ডের ১টি সেক্টরে অর্থ্যাৎ ১০টি সাবসেক্টরে চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হবে। এভাবে আগামী ১০ দিনে ডিএনসিসিতে চিরুনি অভিযান সম্পন্ন করা হবে। প্রতিটি সাবসেক্টরে ডিএনসিসির চারজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও একজন মশক নিধনকর্মী অর্থাৎ প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রতিদিন ৪০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ১০ জন মশককর্মী ডিএনসিসির আওতাধীন বিভিন্ন বাড়ি, স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কোথাও এডিস মশার লার্ভা আছে কিনা, কিংবা কোথাও তিনদিনের বেশি পানি জমে আছে কিনা, কিংবা ময়লা-আবর্জনা আছে কিনা, যা এডিস মশার বংশবিস্তারে সহায়ক, তা পরীক্ষা করবেন।

চিরুনি অভিযান চলাকালে ডিএনসিসির তিনজন কিট তত্ত্ববিদ, স্বাস্থ্য বিভাগ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা দিকনির্দেশনা দেবেন। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে নয়জন কিট তত্ত্ববিদ ও ছয়জন চিকিৎসক ডিএনসিসির সঙ্গে কাজ করবে।  

আগের চিরুনি অভিযানের মতো এ চিরুনি অভিযান চলাকালে যেসব বাড়ি বা স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা কিংবা এডিস মশা বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যাবে তার ছবি, ঠিকানা, মোবাইল নম্বরসহ অন্য প্রয়োজনীয় তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে একটি অ্যাপে সংরক্ষণ করা হবে। এর ফলে চিরুনি অভিযান শেষে ডিএনসিসির কোন কোন এলাকায় এডিস মশা বংশবিস্তার করে তার একটি ডাটাবেস তৈরি হবে। ডাটাবেস অনুযায়ী পরবর্তীতেও তাদের মনিটর করা হবে।

চিরুনি অভিযানের সঙ্গে সঙ্গে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে ডিএনসিসির আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতও পরিচালিত হবে।

গত ১৬-২০ মে পরিচালিত চিরুনি অভিযানে নয় হাজার ৪৬৩টি স্থাপনা পরিদর্শন করে ১৮৭টিতে এডিসের লার্ভা পাওয়া যায়। এডিসের লার্ভা পাওয়ায় এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে চার লাখ ৫৮ হাজার ৩০০ টাকা জরিমানা করা হয়। পরবর্তীতে গত ৬-১৪ জুন অনুষ্ঠিত চিরুনি অভিযানে ডিএনসিসির এক লাখ ৩৪ হাজার ১৩৫টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে এক হাজার ৬০১টি বাড়িতে এডিসের লার্ভা পাওয়া যায়। এডিসের লার্ভা পাওয়ায় সেসময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২১ লাখ ৮৫ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। সর্বশেষ গত ৪-১৪ জুলাই অনুষ্ঠিত পরিচালিত চিরুনি অভিযানে এক লাখ ৩০ হাজার ৯৭৮টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ৮৯৮টিতে এডিসের লার্ভা পাওয়া যায়। এডিসের লার্ভা পাওয়ায় সেসময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২১ লাখ ৬৮ হাজার ৭১০ টাকা জরিমানা করা হয়।

চলতি বছরে চিরুনি অভিযানের মাধ্যমে এ পর্যন্ত দুই লাখ ৭৪ হাজার ৫৭৬টি বাড়ি, স্থাপনা পরিদর্শন করে দুই হাজার ৬৮৬টিতে এডিসের লার্ভা পাওয়া যায়। এডিসের লার্ভা পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৪৮ লাখ ১২ হাজার ৫১০ টাকা জরিমানা করা হয়।

 

উপরে