ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬
আপডেট : ১০ অক্টোবর, ২০২৪ ১১:৪৯

হিজবুল্লাহর হামলায় পিছু হটল ইসরায়েলি সেনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
হিজবুল্লাহর হামলায় পিছু হটল ইসরায়েলি সেনা

লেবানন সীমান্তে লাবৌনেহ গ্রামে বুধবার (৯ অক্টোবর) ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে গোলাবর্ষণ ও রকেট হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহর যোদ্ধারা। ইসরায়েলের ব্যাপক হামলার মধ্যেই পাল্টা আঘাত আনার এ খবর দিয়েছে লেবাননভিত্তিক ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীটি। 

ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে প্রায় এক বছর ধরে পাল্টাপাল্টি রকেট হামলা হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে স্থলভাগেও যুদ্ধে জড়াচ্ছে দেশ দুটি। হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তাদের হামলার মুখে ইসরায়েলি সেনারা পিছু হটেছে। এদিকে, হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের এ সংঘাত, গাজার যুদ্ধ, ইয়েমেনের হুতিদের আক্রমণ, ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা– সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত শুরু হয়ে যেতে পারে এমন উদ্বেগও রয়েছে। 

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী গত মঙ্গলবার জানিয়েছে, তাদের তিনজন সেনা ব্যাপকভাবে আহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার ও বুধবার যুদ্ধ চলাকালে তারা আহত হন। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে ইসরায়েল বোমা হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। পরে গতকাল সকালে উত্তর ইসরায়েলে সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠে।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে লেবাননে সংঘাত নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসরায়েলি হামলায় হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ নেতারা মারা গেছেন। তারা লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে অভিযানের পরিসরও বাড়িয়েছে। লেবাননে এখন কতজন সেনাসদস্য নিয়োজিত রয়েছেন, তা জানাতে রাজি হননি ইসরায়েলি সামরিক মুখপাত্র। তবে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলছে, চার ডিভিশন সীমান্তে কাজ করছে। এর অর্থ হলো, হাজার হাজার সেনাকে নিয়োজিত করা হয়েছে। 

গত মঙ্গলবার ইসরায়েল বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে বোমাবর্ষণ করে হিজবুল্লাহর বাজেট ও লজিস্টিকস সুহাইল হুসেইন হুসেইনিকে হত্যা করেছে বলে দাবি করে। তবে হিজবুল্লাহ খবরটি নিশ্চিত করেনি। এক সময় ঘনবসতিপূর্ণ লেবাননের দক্ষিণের শহরতলি এখন প্রায় শূন্য। বেশির ভাগ বাসিন্দাই এলাকা ছেড়ে সরে গেছেন। ইসরায়েলের হামলার জেরে লেবাননে প্রায় ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনেক বাসিন্দার আশঙ্কা, গাজার মতোই পরিণতি হতে পারে লেবাননের।

বাইডেন-নেতানিয়াহু ফোনালাপ চলমান পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ফোনালাপ হওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র এ খবর জানায়। ইরানে হামলার জন্য ইসরায়েল কী পরিকল্পনা করেছে, তা নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। 

ইরানে ইসরায়েল যেকোনো মুহূর্তে হামলা চালাতে পারে- এমন আশঙ্কা করছে মধ্যপ্রাচ্য। তেহরান এরই মধ্যে জানিয়ে রেখেছে, তাদের অবকাঠামোতে আঘাত হানা হলে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। কয়েক দিন আগে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে ইরান যে হামলা চালিয়েছিল, তাতে কেউ মারা যায়নি বলে উল্লেখ করেছে রয়টার্স। ওয়াশিংটনও ইরানের ওই হামলাকে অকার্যকর আখ্যা দিয়েছে। 

মূলত ইসরায়েল কেমন জবাব দিতে পারে তা নিয়েই আলোচনা হওয়ার কথা। ওয়াশিংটন নিশ্চিত করতে চাইছে যে ইসরায়েলের হামলাটি যথাযথ কি না। গোটা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আরেক সূত্র এ তথ্য জানায়। হোয়াইট হাউস এ নিয়ে মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

বাইডেন এরই মধ্যে বলেছেন, ইসরায়েলের জায়গায় থাকলে তিনি ইরানের তেল মজুদকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানোর বিকল্প খুঁজে বের করতেন। গত সপ্তাহে তিনি আরও জানান, ইরানের পারমাণবিক সাইটে ইসরায়েলের হামলা চালানোকেও সমর্থন করবেন না তিনি।

ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে ২ হাজার একশরও বেশি মানুষ মারা গেছেন। নিহতদের বেশির ভাগই প্রাণ হারিয়েছেন গত দুই সপ্তাহে। নেতানিয়াহুর দাবি, তাদের চালানো গত মঙ্গলবারের হামলায় হিজবুল্লাহ প্রধান হাসান নাসরাল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হতে পারতেন এমন দুই জ্যেষ্ঠ নেতা মারা গেছেন। নেতানিয়াহু তাদের নাম বলেননি। তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োয়াভ গ্যালান্ট বলেছেন, নাসরাল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হওয়ার কথা ছিল হাশেম সাফেদ্দিনের। তিনি সম্ভবত হামলায় মারা গেছেন। নেতানিয়াহু দ্বিতীয় কার কথা বলতে চেয়েছিলেন তা স্পষ্ট নয়।

পরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারি জানিয়েছেন, সাফেদ্দিনের যে সময় হিজবুল্লাহর গোয়েন্দা সদর দপ্তরে থাকার কথা, সে সময়েই বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। সাফেদ্দিন বেঁচে আছেন কি না, সে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। নিশ্চিতভাবে জানার পর সবাইকে জানানো হবে। এদিকে, হিজবুল্লাহর উপপ্রধান নাইম কাসেম গত মঙ্গলবার বলেছেন, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর চাপের মুখেও তাদের সক্ষমতা অক্ষুণ্ন রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স

উপরে