ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬
আপডেট : ১০ অক্টোবর, ২০২৪ ১১:৪৭

পুতিনকে গোপনে কোভিড-১৯ টেস্ট মেশিন দিয়েছিলেন ট্রাম্প

নিজস্ব প্রতিবেদক
পুতিনকে গোপনে কোভিড-১৯ টেস্ট মেশিন দিয়েছিলেন ট্রাম্প

মহামারির সময় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে গোপনীয়ভাবে কোভিড-১৯ টেস্ট মেশিন দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ খবর সামনে আসার পর ট্রাম্পের সমালোচনা করেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস।

প্রখ্যাত সাংবাদিক বব উডওয়ার্ড নিজের বই ‘ওয়ার’-এ এই প্রসঙ্গ নিয়ে বিস্তারিতভাবে আলাপ করেছেন। পরে এ নিয়ে গত মঙ্গলবার সংবাদ প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন ও ওয়াশিংটন পোস্ট। 

মার্কিন বেতার নেটওয়ার্ক ন্যাশনাল পাবলিক রেডিওর (এনপিআর) খবর বলছে, কোভিড-১৯ টেস্ট মেশিন ২০২০ সালের এমন একটা সময়ে পুতিনকে দিয়েছিলেন ট্রাম্প, যখন বেশির ভাগ মার্কিনীরই হাতের নাগালের বাইরে ছিল সেটি।

বব উডওয়ার্ড বইয়ে লিখেছেন, ট্রাম্প টেস্টিং যন্ত্রাংশ পুতিনকে পাঠানোর সময় পুরো বিশ্বেই সংকট ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও অন্য দেশগুলো চাপের মধ্যে ছিল। পুতিন ট্রাম্পকে বলেছিলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কাউকে বলতে চাই না, কারণ মানুষ আপনার ওপর ক্ষিপ্ত হবে, আমার ওপর হবে না। কারণ তারা আমাকে নিয়ে মাথা ঘামায় না।’ ট্রাম্প উত্তরে বলেছিলেন, ‘আমার এগুলো নিয়ে মাথাব্যথা নেই। সব ঠিক আছে।’ ওই বইয়েই উঠে এসেছে কথোপকথনের এ চিত্র।

এনপিআর স্বাধীনভাবে সে তথ্যগুলো যাচাই করতে পারেনি। অজ্ঞাত এক সূত্রের বরাত দিয়ে বইয়ে তা উল্লেখ করা হয়েছে। পরে এসব নিয়ে প্রশ্ন করা হয় কমলা হ্যারিসকে। তার মতামত জানতে চাওয়া হয়। তিনি জানান, উডওয়ার্ডের এসব প্রতিবেদনই অন্যতম প্রমাণ যে ট্রাম্প একজন কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে যোগ্য নন। কারণ তিনি বন্ধু হতে চান এমন স্বৈরশাসকদের মাধ্যমে সহজেই প্রভাবিত হন।

হ্যারিস বলেন, ‘তিনি দৃঢ় মানুষ পছন্দ করেন। এবং তারা তাকে ধোঁকা দেয়। তিনি মনে করেন তারা তার বন্ধু। আসলে তারা পুরোটা সময় তাকে ধোঁকা দেয় এবং প্রশংসা ও সুযোগসুবিধা দিয়ে বোকা বানায়।’

হ্যারিস আরও বলেন, ‘মনে করে দেখুন, শত শত মানুষ মারা যাচ্ছিল। সবাই চেষ্টা করছিল কিট পেতে। আর এই ব্যক্তি যিনি কি না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট, তিনি রাশিয়াতে এক হত্যাকারী স্বৈরাচারকে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য কিট পাঠাচ্ছিলেন।’

ট্রাম্প প্রচার শিবির থেকে বইয়ের সেসব দাবিকে ‘বানোয়াট’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। আরও বলা হয়েছে, সেটি এক ‘বিভ্রান্ত ব্যক্তি’ লিখেছেন। সূত্র: এনপিআর

উপরে