ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬
আপডেট : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১০:৪৬

শিশুদের কভিড-পরবর্তী রহস্যজনক লক্ষণ

অনলাইন ডেস্ক
শিশুদের কভিড-পরবর্তী রহস্যজনক লক্ষণ

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের পর স্বাস্থ্য ও শক্তি পুনরুদ্ধার করার জন্য বিশ্রামের প্রয়োজন হয়। দুঃখের বিষয় কিছু শিশুর ক্ষেত্রে কভিড-১৯ সংক্রমণের পর রহস্যজনক লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। রহস্যজনক নতুন প্রদাহজনিত এ রোগটি শিশুদের মধ্যে মাল্টিসিস্টেম ইনফ্লামেটরি সিনড্রোম (এমআইএস-সি) বা পেডিয়াট্রিক মাল্টিসিস্টেম ইনফ্লামেটরি সিনড্রোম (পিআইএমএস) নামে পরিচিত। রোগটি এ বছরের শুরুর দিকে আবিষ্কার হয়েছিল।

এটা যেকোনোভাবে কভিড-১৯-এর সঙ্গে যুক্ত বলে মনে করা হয়। খুব হালকা সংক্রমণের পরেও শিশুদের মধ্যে এটা দেখা দিতে পারে। তবে করোনাভাইরাসের হালকা সংক্রমণের মানে এই নয় যে এমআইএস-সি খুব মারাত্মক হবে না বা কখনো কখনো মারাত্মক হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সান অ্যান্টোনিওর টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য বিজ্ঞান কেন্দ্রের নবজাতক বিশেষজ্ঞ আলভারো মোরিরা বলেছেন, শিশুদের কভিড-১৯ সংক্রমণের কোনো লক্ষণ দেখা না গেলেও কয়েক সপ্তাহ পর তাদের শরীরে এ তীব্র প্রদাহ দেখা দিতে পারে।

এমআইএস-সি নিয়ে মেডিকেল গবেষণার একটি বিস্তৃত নতুন পর্যালোচনায় মোরিরা ও তার দল প্রায় ৪০টি পর্যালোচনামূলক গবেষণা বিশ্লেষণ করেছেন। পর্যালোচনাটিতে এমআইএস-সি লক্ষণ দেখা দেয়া মোট ৬৬২ জন শিশু জড়িত ছিল। এমআইএস-সি রোগে হূিপণ্ড, ফুসফুস, কিডনি, মস্তিষ্ক, চোখ ও শরীরের একাধিক অংশে মারাত্মক প্রদাহ দেখা দিতে পারে। এটা কাওয়াসাকি রোগ এবং বিষাক্ত শক সিনড্রোম লক্ষণগুলোর সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে এমআইএস-সিতে সামগ্রিক প্রদাহের পরিমাণ ও বিস্তার আরো প্রকট হয়।

মোরিরা বলেন, এটা মারাত্মক হতে পারে, কারণ এটা একাধিক অঙ্গ ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে। হূিপণ্ড ও ফুসফুস, গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সিস্টেম বা নিউরোলজিক সিস্টেমই হোক না কেন; বিস্তৃত প্রভাবই এটা বোঝার প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল। কভিড-১৯ মহামারীর বেশ কয়েক মাস পর আমরা এখন এমআইএস-সির একটি পরিষ্কার চিত্র পাচ্ছি। যদিও লক্ষণ সম্পর্কে আমরা এখনো নিশ্চিতভাবে কিছুই বুঝতে পারছি না। নতুন পর্যালোচনাটিতে বিশ্বজুড়ে নিশ্চিত হওয়া ৬৬২ জন শিশুর মধ্যে ৭১ শতাংশ শিশুকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছিল এবং হাসপাতালে থাকার গড় সময়কাল ছিল প্রায় আটদিন। প্রত্যেক শিশুরই জ্বর ছিল, ৭৩ দশমিক ৭ শতাংশ শিশুর পেটে ব্যথা বা ডায়রিয়া ছিল এবং ৬৮ দশমিক ৩ শতাংশ শিশুর বমি বমি ভাব বা বমি ছিল। এছাড়া চোখের কনজাক্টিভাইটিস ও ফুসকুড়ি সাধারণ ছিল। এর মধ্যে ১১ জন শিশু মারা গিয়েছিল। গবেষণাটিতে পর্যবেক্ষণকৃত ১ দশমিক ৭ শতাংশ মৃত্যুর হার কম বলে মনে হয়েছে। গবেষকরা দেখিয়েছেন, তবু এ সংখ্যাটি কভিড-১৯-এ শিশুদের শূন্য দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ মৃত্যুর হারের তুলনায় অনেক বেশি।

এমনকি সেরে ওঠা শিশুদের হূিপণ্ডে এমআইএস-সি কতটা প্রভাব ফেলেছে তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, প্রায় ৯০ শতাংশ শিশুর ইকোকার্ডিওগ্রাম (ইসিজি) পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং ৫৭ শতাংশের মধ্যে অস্বাভাবিকতা দেখা গেছে।

 

উপরে