ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬
আপডেট : ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১১:২০

করোনাকালে বেশির ভাগ বহুজাতিক কোম্পানিরই ব্যবসা কমেছে

অনলাইন ডেস্ক
করোনাকালে বেশির ভাগ বহুজাতিক কোম্পানিরই ব্যবসা কমেছে

দেশে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর পর ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা নেমে আসে। মহামারীর প্রভাবে দেশীয় কোম্পানির পাশাপাশি বহুজাতিক কোম্পানিগুলোও ব্যবসা হারিয়েছে। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে সবচেয়ে বেশি ব্যবসা কমেছে বাটা শু কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের। তবে ব্যতিক্রম ছিল রেকিট বেনকিজার ও ম্যারিকো বাংলাদেশ। জীবাণুনাশক ও স্যানিটাইজার জাতীয় পণ্য বিক্রির সুবাদে এ সময়ে ব্যবসা ও মুনাফা দুটোই বেড়েছে কোম্পানি দুটির।

দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ১২টি বহুজাতিক কোম্পানির এপ্রিল-জুন প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, এ সময়ে সবচেয়ে বেশি ৮৫ শতাংশ ব্যবসা কমেছে জুতা উৎপাদনকারী বহুজাতিক বাটা শু কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের। চলতি ২০২০ হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির বিক্রি হয়েছে ৪১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। এর আগের বছরের একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রির পরিমাণ ছিল ২৮২ কোটি টাকা। বিক্রি কমে যাওয়ার কারণে এ সময়ে কোম্পানিটির ৭৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা কর-পরবর্তী লোকসান হয়েছে। যদিও আগের বছরের একই সময়ে ২১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা মুনাফা করেছিল বাটা।

কোম্পানিটির কর্মকর্তারা বলছেন, স্বাভাবিকভাবেই ঈদের সময়ে ২৫ শতাংশ ব্যবসা এবং এ সময়ে বেশি দামের পণ্য বিক্রি হয়, যেগুলো থেকে বেশি মার্জিন আসে। কিন্তু কভিড-১৯-এর কারণে এ বছর কোম্পানি আগের বছরের তুলনায় মাত্র ১৫ শতাংশ ব্যবসা করতে পেরেছে। এ কারণে এ সময়ে লোকসান গুনতে হয়েছে। তাছাড়া ঈদের সময়ে ব্যবসার কথা মাথায় রেখে এ বছরের শুরু থেকেই উৎপাদন পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ঈদের তিন মাস আগেই কোম্পানি পণ্য স্টক করা শুরু করে। কিন্তু কভিড-১৯-এর কারণে ব্যবসা করতে না পারায় নগদ প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।

করোনাকালে তিন মাসে ব্যবসা ৬৫ শতাংশ কমেছে সিরামিকস খাতের বহুজাতিক কোম্পানি আরএকে সিরামিকস বাংলাদেশ লিমিটেডের। চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে কোম্পানিটির বিক্রির পরিমাণ ছিল ৫০ কোটি ৩২ লাখ টাকা, আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৪৪ কোটি ২২ লাখ টাকা। এ সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী লোকসান হয়েছে ১৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে মুনাফা হয়েছিল ১৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

২৬ মার্চ থেকে দেশব্যাপী ছুটির কারণে আরএকে সিরামিকসের ডিলারদের দোকানপাট বন্ধ ছিল। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত ছিল এবং সাপ্লাই চেইনও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে কোম্পানিটির ব্যবসা কমার পাশাপাশি লোকসান গুনতে হয়েছে।

ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্যাস উৎপাদনকারী বহুজাতিক কোম্পানি লিন্ডে বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবসা এ বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৫৭ শতাংশ কমেছে। চলতি ২০২০ হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির বিক্রি হয়েছে ৬১ কোটি ১৪ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে হয়েছিল ১৪০ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। এ সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭৪ শতাংশ কমে ৭ কোটি ২৯ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবে রঙ উৎপাদনকারী বহুজাতিক কোম্পানি বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবসাও অর্ধেক কমে গেছে। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে কোম্পানিটির বিক্রি হয়েছে ২৩২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ৪৫৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা। ব্যবসা কমার কারণে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ৭৯ শতাংশ কমে ১০ কোটি ৭৬ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

জানতে চাইলে বার্জার বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রূপালী চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, করোনার কারণে এপ্রিল ও মে মাসে আমাদের ব্যবসা ৫০ শতাংশ কমে গেছে। যদিও জুন থেকে ব্যবসায়িক পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। কিন্তু আগের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগবে। দ্রুত ভ্যাকসিন চলে এলে তখন দ্রুত অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ঘুরে দাঁড়াবে।

করোনার সময়ে বার্জার স্যানিটাইজারের ব্যবসা শুরু করেছিল। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এটি বড় পরিসরে শুরু করিনি এবং সে ধরনের পরিকল্পনাও আমাদের নেই। দেশব্যাপী ডিলারদের কাছে আমরা স্যানিটাইজার দিয়েছি। এ থেকে যে ব্যবসা হবে সেটি কখনোই আমাদের মূল ব্যবসাকে ছাড়িয়ে যাবে না। তবে এতে আমাদের ব্যবসায় কিছুটা মূল্য সংযোজন হবে।

ইলেকট্রনিকস ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স উৎপাদনকারী বহুজাতিক কোম্পানি সিঙ্গার বাংলাদেশের ব্যবসা করোনার তিন মাসে ৪২ শতাংশ কমেছে। চলতি হিসাব বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ২৯৮ কোটি টাকার পণ্য বিক্রি করেছে কোম্পানিটি। আগের বছরের একই সময়ে তাদের বিক্রির পরিমাণ ছিল ৫১৭ কোটি টাকার পণ্য। ব্যবসা কমার কারণে চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা আগের বছরের একই সময়ে তুলনায় ৮০ শতাংশ কমে ৭ কোটি ৯০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

সিঙ্গার বাংলাদেশের পরিচালক (করপোরেট অ্যাফেয়ার্স) ও মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ সানাউল্লাহ বণিক বার্তাকে বলেন, কভিড-১৯-এর প্রভাবে মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ থেকেই আমাদের বিক্রি বন্ধ হয়ে গেছে। দুই ঈদেই আমাদের ৬০ শতাংশের মতো পণ্য বিক্রি হয়ে থাকে। এর মধ্যে ঈদুল ফিতরের সময় ব্যবসা হয়নি বললেই চলে। ঈদুল আজহায় মোটামুটি ব্যবসা হয়েছে। তবে তা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কম। আর বর্তমান বাস্তবতায় মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাইরে ইলেকট্রনিকস পণ্য কম কিনবে, এটাই স্বাভাবিক।

দেশের সিমেন্ট খাতের কোম্পানিগুলো করোনার আগে থেকেই ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জের মধ্যে ছিল। করোনায় কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক অবস্থা আরো শোচনীয় হয়েছে। সিমেন্ট খাতের তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানি লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবসা করোনার কারণে ৪১ শতাংশ কমে গেছে। চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির ২৬৪ কোটি টাকা বিক্রি হয়েছে, যেখানে এর আগের বছরের একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ৪৫০ কোটি টাকা। ব্যবসা কমে যাওয়ার কারণে এ সময়ে আগের বছরের তুলনায় কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা প্রায় ২৭ শতাংশ কমে ৩২ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

সিমেন্ট খাতের আরেক বহুজাতিক কোম্পানি হাইডেলবার্গ সিমেন্ট বাংলাদেশের লিমিটেডের ব্যবসা এ বছরের এপ্রিল-জুন সময়ে ৩৮ শতাংশ কমেছে। চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির বিক্রি হয়েছে ১৭৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, যদিও আগের বছরের একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ২৮৬ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। বিক্রি কমার প্রভাবে আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট লোকসান আগের বছরের তুলনায় ৩৫৭ শতাংশ বেড়ে ১৮ কোটি ৭১ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

ইউনিলিভারের মালিকানায় চলে যাওয়া গ্ল্যাক্সেস্মিথক্লাইন বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবসাও এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ১৩ শতাংশ কমেছে। এ সময় কোম্পানিটির বিক্রি হয়েছে ৯৪ কোটি ২৭ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১০৮ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। বিক্রি কমলেও সুদ বাবদ আয় ও বন্ধ করে দেয়া ওষুধ খাতের ব্যবসা থেকে লোকসান কমার কারণে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে ১৩ কোটি ৭৩ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

তামাক খাতের বহুজাতিক জায়ান্ট ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবসা কমেছে ১১ শতাংশ। এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে কোম্পানিটির রাজস্ব আয় হয়েছে ৬ হাজার ১৮৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা। যদিও আগের বছরের একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব আয় হয়েছিল ৬ হাজার ৯২৯ কোটি ২০ লাখ টাকা। ব্যবসা কমা সত্ত্বেও উৎপাদন, পরিচালন ও সুদ ব্যয় কমার কারণে আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ৬৯ শতাংশ বেড়ে ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

জানতে চাইলে বিএটিবিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেহজাদ মুনিম বণিক বার্তাকে বলেন, সাধারণ ছুটির কারণে এপ্রিলে অধিকাংশ দোকানপাটই বন্ধ ছিল। এ সময় আমাদের ব্যবসা প্রায় ৩০ শতাংশের মতো কমেছিল। এরপর মে মাস থেকে ধীরে ধীরে দোকানপাট খুলতে শুরু করায় ব্যবসা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। বাজেটে সিগারেটের দাম বাড়তে পারে এমন ধারণা থেকে ডিস্ট্রিবিউটররা বেশি মুনাফার আশায় বরাবরই স্টক করে থাকেন। ফলে স্টক শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা আমাদের কাছ থেকে কম পরিমাণে সিগারেট নেবে। ফলে প্রথমার্ধ পর্যন্ত ব্যবসা প্রবৃদ্ধি ভালো হলেও তৃতীয় প্রান্তিকে এসব কারণে প্রবৃদ্ধি কমতে পারে। তাছাড়া করোনার কারণে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য পরিচালন খাতে ব্যয় অনেক কমে গিয়েছিল। এ কারণে কিন্তু এ সময়ে মুনাফা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে এখন পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসার কারণে এসব খাতে আমাদের ব্যয় বাড়বে। যার প্রভাব স্বাভাবিকভাবেই মুনাফার ওপর পড়বে।

টেলিযোগাযোগ খাতের বহুজাতিক কোম্পানি গ্রামীণফোন লিমিটেডের ব্যবসা করোনার সময়ে ৮ শতাংশ কমেছে। চলতি হিসাব বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটির রাজস্ব আয় হয়েছে ৩ হাজার ৩০৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে রাজস্ব আয় ছিল ৩ হাজার ৬০৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ২৪ শতাংশ কমে ৭২৬ কোটি ৫৫ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

কোম্পানিটির কর্মকর্তারা বলছেন, সাধারণ ছুটি থাকায় দেশের অর্থনীতির শ্লথগতির কারণে ২০২০ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে গ্রামীণফোন চ্যালেঞ্জিং সময় পার করেছে। তবে মে মাস থেকে অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন হয়েছে। ইন্টারনেট সেবায় প্রবৃদ্ধি ঠিক থাকলেও দ্বিতীয় প্রান্তিকে রাজস্ব অর্জন ও নেটওয়ার্কে প্রাহক সংখ্যায় নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

করোনার সময়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর মধ্যে রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশ লিমিটেড ও ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবসা বেড়েছে। এপ্রিল-জুন সময়ে রেকিট বেনকিজারের ব্যবসা বেড়েছে প্রায় ৪৫ শতাংশ। কোম্পানিটির প্রধান দুটি ব্র্যান্ড হচ্ছে ডেটল ও হারপিক। পাশাপাশি লাইজল ব্র্যান্ডের পণ্যও রয়েছে কোম্পানিটির। বাজারে ডেটল ব্র্যান্ডের সাবান, লিকুইড হ্যান্ডওয়াশ, লিকুইড অ্যান্টিসেপটিক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার রয়েছে। আর লাইজল ব্র্যান্ডের লিকুইড ক্লিনার ফ্লোর জীবাণুমুক্ত করার ক্ষেত্রে ব্যবহূত হয়। করোনার কারণে বাজারে ডেটল ব্র্যান্ডের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী ও লাইজল ব্র্যান্ডের ক্লিনারের চাহিদা বেড়েছে।

চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন সময়ে রেকিট বেনকিজারের বিক্রি হয়েছে ১৩৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে কোম্পানিটির বিক্রির পরিমাণ ছিল ৯৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা আগের বছরের তুলনায় ৫৩ শতাংশ বেড়ে ১৫ কোটি ৮১ লাখ টাকা হয়েছে।

রেকিট বেনকিজার বাংলাদেশের কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ নাজমুল আরেফিন বণিক বার্তাকে বলেন, স্বাভাবিকভাবেই কভিড-১৯-এর কারণে আমাদের ডেটল ব্র্যান্ডের পণ্যগুলোর চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে। পাশাপাশি আগের তুলনায় লাইজল ব্র্যান্ডেরও চাহিদা বেড়েছে। অতিমারীর এ সময়ে বাজারে এসব পণ্যের বাড়তি চাহিদা তৈরি হওয়ার কারণে কোম্পানির বিক্রি বেড়ে গেছে। ফলে দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির মুনাফায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

এদিকে ম্যারিকো বাংলাদেশের ব্যবসা এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে প্রায় ১০ শতাংশ বেড়েছে। বাজারে স্যানিটাইজারের পাশাপাশি সবজি ও ফলমূল জীবাণুমুক্ত করার পণ্যও রয়েছে তাদের। চলতি হিসাব বছরের এপ্রিল-জুন সময়ে কোম্পানিটির বিক্রি হয়েছে ৩০১ কোটি ১৭ লাখ টাকা, যেখানে এর আগের বছরের একই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ২৭৪ কোটি ৬১ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে কোম্পানিটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা আগের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেড়ে ৯৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

 

উপরে